সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে দলে দলে আসছেন বিএনপির নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ। তাঁরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করছেন, মোনাজাত করছেন এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
আজ শুক্রবার সকাল থেকেই জিয়া উদ্যানে অবস্থিত খালেদা জিয়ার কবরে ভিড় জমাতে থাকেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারতের কারণে সাধারণ মানুষ ও নেতা–কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারত করেন। পরিবারের সদস্যদের জিয়ারত শেষে আবারও দলে দলে নেতা–কর্মীরা কবর জিয়ারতে প্রবেশ করেন।
বেলা সাড়ে ১১টার পর ৯০–এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নেতারা খালেদা জিয়ার কবরে উপস্থিত হন। এ সময় আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন ও নাজমুল হক প্রধানসহ অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং দোয়া করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান প্রথম আলোকে বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী এবং গণতন্ত্রের মা। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন হবে।”
বেলা ১১টার পর ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি কবর জিয়ারতে আসেন। তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নয়, সারা বাংলাদেশের জনগণের নেত্রী। তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল ও কান্না দেখে আমরা বুঝেছি, এ রকম নেত্রী বাংলাদেশে আর পাওয়া যাবে না।”
এছাড়া জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব)সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরাও দলে দলে এসে খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং দোয়া করছেন।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বুধবার তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় দল–মত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
